Category: আর্থিক কেলেঙ্কারী

  • পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বদলে যাচ্ছে পদ্মার

    পাড় ভাঙছে, গতি বদলাচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ

    জেসমিন মলি

    গত ৫০ বছরে পদ্মা নদীর পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এ সময়ের মধ্যে বারবার গতিপথ বদলেছে নদীটি। সংকুচিত হয়ে পড়ায় মৎস্য আহরণও কমেছে। আঁকাবাঁকা সর্পিল গতি হারিয়ে পরিবর্তনশীল ও নাজুক তটরেখার নদীতে রূপ নিয়েছে পদ্মা। নদীটি এখন অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি, উষ্ণায়ন, পলি পড়ার মাত্রা বৃদ্ধি ও দখল-দূষণসহ নানাবিধ কারণে চিরচেনা চেহারা হারিয়ে ফেলছে।

    সম্প্রতি পদ্মার গত ৫০ বছরের আঙ্গিক পরিবর্তনের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যানথ্রোপজেনিক ইন্টারফিয়ারেন্স ফর দ্য মরফোলজিক্যাল চেঞ্জেস অব দ্য পদ্মা রিভার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘স্ট্রেনদেনিং অব হিলশা রিসার্চ ইন রিভারাইন স্টেশন চাঁদপুর’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাঁচ গবেষক যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেন। গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ’ জার্নালের সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় নদীর সংকোচনের মাত্রা, বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন, ইলিশ উৎপাদনে প্রভাবসহ নানাবিধ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে নদীর বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনের কারণে পদ্মাকেন্দ্রিক জনবসতির জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের তথ্যও উঠে এসেছে।

    গবেষণায় পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন কারণ বিশেষ করে নানা উন্নয়ন প্রকল্প এবং দখল-দূষণ নদীটিকে পরিবেশগতভাবে বেশ নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে, যা নদী-তীরবর্তী জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে তা নদী-তীরবর্তী জনসাধারণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতিরও কারণ হয়ে উঠেছে। স্থানে স্থানে নদী সংকুচিত হয়ে পড়ায় মাছের পরিমাণ ক্রমেই কমছে। বিশেষ করে ইলিশের উৎপাদন যে হারে বাড়ার কথা ছিল, সে হারে বাড়ছে না।

    নদীর পাড় বা তটরেখাও খুব স্থিতিশীল নয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এটি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। গত ৫০ বছরে পদ্মার সামগ্রিক প্রস্থে বিস্তর পরিবর্তন এসেছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতেও দেখা যাচ্ছে এ নদীর চ্যানেল অস্বাভাবিক হারে পরিবর্তিত হয়েছে।

    পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি ও পাড়ে ক্ষয়ের তীব্রতা পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পদ্মার আরো বেশি রূপগত পরিবর্তন হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানিপ্রবাহ এখন বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে তা নদীর চেহারা আরো বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে নদীর তীর ও সংশ্লিষ্ট খালগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়বে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিবর্তন আরো বেশি প্রকট হবে।

    ইতিহাস বলে যে পদ্মা মূলত এঁকেবেঁকে চলা নদী। কিন্তু উচ্চসংবেদনশীল আবহাওয়া এবং নদীর ক্ষয় ও পলি জমার কারণে এটি অনেকটা চুলের বিনুনির আকার ধারণ করেছে, অর্থাৎ অনেক শাখানদী সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে জোয়ারের উচ্চতা থাকে বেশি। একই সঙ্গে উজান থেকে নিচের দিকে পানির প্রবাহও বেশি থাকে। সামনের দিনগুলোয় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি, বন্যার পানির তীব্রতা ও উচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে উজানের পানিপ্রবাহেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পলি জমা ও পাড় ক্ষয়ের কারণে বন্যার পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

    পদ্মার উত্পত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহে। সেখান থেকে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়ে রাজশাহী বিভাগের নবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করেছে। উত্পত্তিস্থল থেকে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দে পদ্মার ধারা এসে মিলেছে যমুনা নদীর সঙ্গে। এরপর এ মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্বদিকে চাঁদপুর জেলায় গিয়ে মিলিত হয়েছে মেঘনা নদীর সঙ্গে।

    নদীটির পরিবেশগত পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখানে অতীতের নানা গবেষণা ও ভূরূপতাত্ত্বিক সমীক্ষার তথ্য-উপাত্তের সহায়তা নিয়েছেন। পাশাপাশি নদীর ভূতাত্ত্বিক গঠন, জলপ্রবাহে পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন সময়ের তাপ ও বৃষ্টিপাতের মাত্রার পরিসংখ্যানের সহায়তাও এতে নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার স্যাটেলাইট ইমেজও বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২১টি আবহাওয়া অফিস থেকে। আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে ১৯৬৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

    গবেষকদের একজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আজহারুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, পদ্মা দেশের অন্যতম প্রধান নদী। গবেষণার মাধ্যমে আমরা এ নদীকে ঘিরে মানুষের জীবনযাত্রার একটি নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যও খুঁজে দেখতে চেয়েছি। একই সঙ্গে এ নদীর অন্যতম প্রধান মাছ ইলিশের আবাসস্থল ও এ মাছকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার স্বরূপও বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি। এজন্য আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গত ৫০ বছরের বিভিন্ন তথ্য ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করেছি। গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এ নদীর আচরণগত পরিবর্তনও হয়েছে। আবার নদীভাঙনের ফলে তীরবর্তী মানুষের পেশায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। মাইগ্রেশনও বেড়েছে অনেক। আগে দেখা যেত যারা এ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা ভাঙনের ফলে শহরে এসে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। আবার দখল ও দূষণের ফলে নদীর আচরণগত পরিবর্তনও হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে মাছ আহরণের পরিমাণের ওপর। বিশেষ করে এ নদীতে ইলিশ আহরণের পরিমাণ যে হারে বাড়ার কথা ছিল, সে হারে বাড়েনি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

    নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ার বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তাদের ভাষ্যমতে, তাপমাত্রার পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি ও পলি জমে যাওয়ার কারণে পদ্মায় এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। মাছের বংশ বিস্তারে তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে মাছের ডিম ছাড়ার সময়। এর মধ্যে সামান্যতম তারতম্য হলে তা মাছের বংশ বিস্তারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পদ্মা নদীর আয়তন দিন দিন কমছে।

    এছাড়া মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মৎস্য শিকারে কারেন্ট জালের ব্যবহার, অতিরিক্ত আহরণকেও চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিষয়টি নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ আহরণের পরিমাণ কমছে। পদ্মা নদীতেও একই কারণে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ কমছে। ক্রমাগত নদীর আয়তন কমছে। আবার নির্বিচারে মাছ শিকার করতে বিভিন্ন ধরনের জালের ব্যবহার হচ্ছে। ফলে মাছের বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। মানবসৃষ্ট পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণে এ নদীতে মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পদ্মা নদীর রূপগত যে পরিবর্তন হয়েছে, তা চিহ্নিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। নদীর রূপগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইটের তোলা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক তুলনা, স্থল জরিপ, নদীর তলদেশে পলি জমার পরিমাণ, পানির প্রবাহ, পানির নির্গমন ও নদীর পাড় ক্ষয়ের তথ্যও সংগ্রহ ও তুলনা করা হয়েছে।

    জলবায়ুর পরিমাপক ও নৃতাত্ত্বিক কার্যকলাপ উভয়ই মাছের জীবনাচরণ ও উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় উঠে এসেছে ফলাফলগুলো পদ্মা নদীর সামগ্রিক হাইড্রোডায়নামিক ও রূপগত চরিত্র বিশ্লেষণে কাজে আসবে। ভবিষ্যতের জন্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে এ গবেষণায়।

    নদীটি দখল-দূষণ করার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, পদ্মা নদীর রাজশাহী এলাকার একটি অংশ ভারতের মুর্শিদাবাদের সঙ্গে নৌরুট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ওখানে দখলের সুযোগ নেই। তবে চারঘাট বা ওইসব এলাকায় নদী দখলের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমাদের নদ-নদী রক্ষায় নদী রক্ষা কমিশন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দূষণ বা নদী দখলমুক্ত করতে টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়। দখলদারদের থেকে উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ প্রবাহিত রাখতে সরকারের উদ্যোগে সবকিছুই করা হবে।

    অক্টোবর ০২, ২০২১ তারিখে দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত

  • ঢাকা নদীবন্দরের অবকাঠামো

    মুখোমুখি অবস্থানে ডিএসসিসি ও বিআইডব্লিউটিএ

    জেসমিন মলি | ডিসেম্বর ২২, ২০২১

    বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত ঢাকা নদীবন্দরের অবকাঠামো নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নদী তীরের ঐতিহাসিক স্থাপনা আহসান মঞ্জিল, লালকুঠি হল ও রূপলাল হাউজের সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এর সামনের স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি। যার মধ্যে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনালও। সংস্থাটিকে এ স্থাপনা সরিয়ে নিতে চিঠি দিয়েছে করপোরেশন। আর বিআইডব্লিউটিএ বলছে, করপোরেশনের এ দাবি একেবারেই অযৌক্তিক। এ পথ দিয়ে রোজ হাজারো মানুষ যাতায়াত করে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নৌপথের গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পরিমাণও আগের চেয়ে বেশি। এ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা নদীবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নানান অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রূপলাল হাউজ, আহসান মঞ্জিল ও লালকুঠি হলের সামনের নদীর তীরভূমি থেকে সব অবকাঠামো অপসারণে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে ডিএসসিসি।

    বিআইডব্লিউটিএ বলছে, এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ হাজার যাত্রী চলাচল করে। মালামাল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথও এটি। ফলে সিটি করপোরেশন যে দাবি করেছে তা অযৌক্তিক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও।

    সার্বিক বিষয় জানিয়ে গতকাল সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে একটি প্রতিবেদন দেয় বিআইডব্লিউটিএ। সেখানে বলা হয়, আহসান মঞ্জিলের সামনে ওয়াটার বাসের ঘাট ও এমপি ঘাট রয়েছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব নৌযানগুলোও সেখানে রাখা জয়। লালকুঠি ও রূপলাল হাউজের সামনে থেকে চাঁদপুর, শরীয়তপুর, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-ইলিশা রুটে লঞ্চ ও বিআইডব্লিউটিসির স্টিমার চলাচল করে। এসব ঘাট দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক নৌযান চলাচল করে। ফলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর।

    অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে দেয়া চিঠিতে ডিএসসিসি বলেছে, মোগল নির্মাণশৈলী ও কৌশল অবলম্বনে ১৮৭২-১৮৭৯ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নর্থব্রুক হল (লালকুঠি) নির্মিত হয়। ভারতের তত্কালীন গভর্নর জেনারেল টমাস জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুক ঢাকা সফরে এলে তার সফরকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ ভবনের নাম নর্থব্রুক হল রাখা হয়। বর্তমানে ভবনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, প্রাচীন সৌন্দর্যময় স্থাপনাটির সম্মুখভাগে বিভিন্ন স্থাপনা থাকার কারণে এটি এখন নদী থেকে দেখা যায় না। স্থাপনা নির্মাণের ফলে পাশের রাস্তা, ভাসমান হকার, কুলি ও মালামাল বহনকারী পরিবহনের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে লালকুঠি হলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ভবনটির নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কারের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। শিগগিরই ভবনটির চারপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এর সংস্কারকাজ শুরু হবে। সেই জন্য লালকুঠি হলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনালসহ অন্যান্য স্থাপনা দ্রুত অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠিতে বলা হয়। গত বছরও একই বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল বলেও নতুন চিঠিতে উল্লেখ করেছে ডিএসসিসি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বণিক বার্তাকে বলেন, সিটি করপোরেশনের আবেদনের পরিপ্র্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি আমাদের কাছে প্রকৃত ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। জবাবে আমরা বলেছি, রূপলাল হাউজ, আহসান মঞ্জিল ও লালকুঠি হলের সামনের স্থাপনা না সরিয়েই দর্শনার্থীদের জন্য নদী থেকে এগুলোর সৌন্দর্য উপভোগের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজটি করা হবে বলেও তিনি জানান।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঊনবিংশ শতকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে সুত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৫২ মিটার দীর্ঘ একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন তত্কালীন ব্যবসায়ী ভ্রাতৃদ্বয় রূপলাল দাস ও রঘুনাথ দাস। তৎসময়ে ভবনটির নামকরণ করা হয় রূপলাল হাউজ। প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহাসিক এ স্থাপনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায়। ভবনটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনে প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমী দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য তা উন্মুক্ত করার বিশদ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি। এজন্য রূপলাল হাউজ ও আহসান মঞ্জিলের সামনের ও নদী-তীরবর্তী স্থাপনা থেকে সব অবকাঠামো স্থানান্তর ও অপসারণ চায় তারা।

  • কনডেনসেট আমদানির সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি রিফাইনারি আপত্তি বিপিসির

    জেসমিন মলি | ০১:০১:০০ মিনিট, এপ্রিল ২৮, ২০১৮

    খনি থেকে উত্তোলিত গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট আমদানির জন্য নীতিমালা করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর জন্য কনডেনসেট আমদানির সুযোগ রেখে এরই মধ্যে একটি খসড়া নীতিমালাও তৈরি করেছে জ্বালানি বিভাগ। তবে এ খসড়া নীতিমালা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিআরএবি)। তারা বলছে, খসড়া নীতিমালা যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, তাতে ছোট রিফাইনারিগুলো কনডেনসেট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আরো বৈষম্যের শিকার হবে। অন্যদিকে কনডেনসেট আমদানি উন্মুক্ত করার বিপক্ষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তারা বলছে, কনডেনসেট আমদানি হলে দেশে জ্বালানি তেলে ভেজালের সুযোগ বেড়ে যাবে। (more…)

  • রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালক হিসেবে উভয়সংকটে আমলারা

    জেসমিন মলি | ০১:১৮:০০ মিনিট, এপ্রিল ২৪, ২০১৮

    রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্য নিযুক্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব থেকে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কোনো কোনো কর্মকর্তা রয়েছেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে। আইন মেনে এসব নিয়োগ দেয়া হলেও বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতে জটিলতা সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব নিয়োগ স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।base_1524543388-BD-Govt (more…)

  • দুদকের পর্যবেক্ষণ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সড়কের স্থায়িত্ব কমাচ্ছে

    জেসমিন মলি ও শামীম রাহমান | ১৮:৫০:০০ মিনিট, জানুয়ারি ০২, ২০১৮

    base_1514834538-4সড়ক নির্মাণে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও তা মানা হচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ সড়কেই ব্যবহার হচ্ছে ৮০-১০০ গ্রেডের নিম্নমানের বিটুমিন। পাথর, পিকেট বা গ্রেড-১ ইটের খোয়ার পরিবর্তে সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট। নির্মাণ উপকরণ হিসেবে যে বালি ব্যবহার করা হচ্ছে, মানসম্মত নয় তাও। নিম্নমানের এসব উপকরণের কারণে সড়কের স্থায়িত্ব কমছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। (more…)

  • আলু সবজি ও ফল রফতানিতে মানদণ্ড অনুসরণ হচ্ছে না ইইউতে সাত বছরে ৯০৮টি চালান বাতিল

    জেসমিন মলি | ০১:৩৮:০০ মিনিট, মার্চ ১৮, ২০১৮

    base_1521317453-drge

    মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোও বাংলাদেশ থেকে আলু, শাকসবজি ও ফলমূল রফতানির একটি সম্ভাবনাময় বাজার হয়ে উঠেছিল। কিন্তু রফতানিকারকরা মানদণ্ড অনুসরণ না করায় এ বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। পণ্যে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের উপস্থিতিসহ নানা কারণে বাড়ছে নন-কমপ্লায়েন্স অভিযোগ। এতে প্রতি বছর বাতিল হচ্ছে রফতানি চালান, কমছে রফতানি।

    সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির কাছে দেয়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ১০১৭ সাল পর্যন্ত সাত বছরে নন-কমপ্লায়েন্সের কারণে রফতানিকৃত শাকসবজির ৯০৮টি চালান বাতিল করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর মধ্যে ২০১১ সালে ১১৫, ২০১২ সালে ১৫৩, ২০১৩ সালে ১৪৪, ২০১৪ সালে ১৯৫, ২০১৫ সালে ১৪৭, ২০১৬ সালে ১১৭ এবং ২০১৭ সালে ৩৭টি চালান বাতিল হয়।

    (more…)

  • সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণ জালিয়াতিতে জড়িতদের পুরস্কৃত করেছে বেসিক ব্যাংক

    জেসমিন মলি | ০০:৫৮:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

    www.bonikbarta.comবেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সব ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধাসহ এসব কর্মকর্তাকে সসম্মানে বিদায় দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের শাস্তি নয় বরং পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির একটি সাব-কমিটির বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে। সাব-কমিটিতে বেসিক ব্যাংক যে পরিচালন মুনাফার হিসাব দিয়েছে, তার সঠিকতা নিয়েও সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন। (more…)

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লুণ্ঠন ও রাষ্ট্রীয় অর্থ জোগানের সহগমন

    জেসমিন মলি | ০১:৫২:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৭

    base_1496601505-7

    সংকটের দ্রুততা, ব্যাপ্তি ও গভীরতা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। চিকিত্সাশাস্ত্রের ভাষায় যাকে ‘মাল্টিপল অর্গান ফেইলিউর’ বলা যেতে পারে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জীবন বাঁচাতে সরকারি কোষাগার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা জোগান দেয়া হয়েছে। তবে সংকট এখনো থামেনি। ব্যাংকিং খাতের পর্যবেক্ষকদের অভিমত, এখনো অনেক কিছুই লুকিয়ে বা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলো বের হলে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, গোটা ব্যাংকিং খাতই বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্যে এসব চিত্র বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদন তৈরিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভিন্ন সুপারিশ আমলে নেয়া হয়েছে। (more…)

  • এইচডিএমের জরিপ ভাঙাচোরা দশায় জেলা শহরের ৪৭% সড়ক

    জেসমিন মলি | ০০:৩৪:০০ মিনিট, জুন ০৫, ২০১৭

    base_1496601505-7সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়ক। শুধু স্থানীয়দের চলাফেরাতেই সীমাবদ্ধ নেই সড়কটির গুরুত্ব। অর্থনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর ভোমরায় যেতে হলে সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি চাষীরাও নিজেদের পণ্য পরিবহনে এ সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থলপথে সুন্দরবনে যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। মেরামতের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। জরাজীর্ণ ও খানাখন্দময় এ সড়ক দিয়ে একদিকে যেমন পণ্য পরিবহনে খরচ পড়ছে বেশি; আবার অন্যদিকে ক্ষতির শিকার হচ্ছে চলাচলকারী যানবাহনগুলোও। এছাড়া এখানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। (more…)

  • নিরীক্ষা আপত্তি তিতাসে ৫ বছরে গরমিল ৩ হাজার কোটি টাকার

    জেসমিন মলি | এপ্রিল ২০, ২০১৬

    যথাযথভাবে আর্থিক বিধি অনুসরণ করা হয়নি। রয়েছে ক্রয় ও বকেয়া-সংক্রান্ত আপত্তি। আবার সিস্টেম লসের দোহাই দিয়েও আদায় হয়নি বড় অঙ্কের অর্থ। অনাদায়ী রয়েছে জামানতও। এ রকম ২৩৩ অডিট আপত্তি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড নিয়ে। ২০১০-১১ থেকে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের এসব নিরীক্ষা আপত্তিতে প্রায় ৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকার গরমিল উঠে এসেছে। সম্প্রতি সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী মিটির বৈঠকে এসব আপত্তি উপস্থাপন করা হয়। (more…)